বয়সে বড় মেয়েদের বিয়ে করলে কি হয় জানেন?

বয়সে ছোট মেয়েকেই স্ত্রী হিসেবে পেতে চান বেশির ভাগ মানুষ। এর পেছনে অনেক যুক্তিও দেখান তারা। কিন্তু জানেন কি বয়সে বড় মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার কতো লাভ আছে। এর উদাহরণও রয়েছে।

অভিষেক-ঐশ্বরিয়া থেকে সচিন-অঞ্জলি, তরকা জগতে বয়সে বড় মেয়েকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করার উদাহরণ ভুরিভুরি। তবে শুধুই সেলিব্রেটি নয়, আজকাল নিজেদের আশেপাশে একবার চোখ মেললেই এমন উদাহরণ প্রায়ই দেখা যায়।

বয়সে বড় মেয়েরা স্বাভাবিকভাবেই ছোট মেয়েদের তুলনায় অনেক ভালোভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। যা ছেলেদের আকৃষ্ট করে বেশি। বয়সে বড় মেয়েরা ছোটদের মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না। তাদের কনফিডেন্স ছেলেদের আকৃষ্ট করে। অনেক সময়ই দেখা যায় বয়সে বড় হওয়ায় এই সমস্ত মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়। ফলে সবসময় ছেলেদের পকেটেই টান পড়ে না। কিছু সময় মেয়েরাও আর্থিক দিকটি সামলে নেন।

ছেলেমানুষি কম থাকে। ফলে এই মেয়েরা কথায় কথায় ঝগড়াঝাঁটি, কান্নাকাটি বা পাবলিক প্লেসে ভুলভাল আচরণ কম করে। এই মেয়েরা অনেক বেশি বুঝদার হন এবং জীবনের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেন। বড় মেয়েরা আপনাকে বলবে ছোট সমস্যাগুলো হাল্কাভাবে নিতে। শেখাবে কীভাবে বড় বড় সমস্যাগুলোও সহজে সমাধান করতে হয়। অনেক পুরুষই শারীরিক সম্পর্কে অভিজ্ঞ বা পরিণত মহিলাদের বেশি পছন্দ করেন।

এই ধরনের মেয়েদের সঙ্গে প্রেম করার অনেক সুবিধা রয়েছে। তারা অনেক পরিণতমনস্ক হয়। তাই দাম্পত্য জীবনে বোঝাপড়াতেও সুবিধা হয়। পরিণত বয়সের হওয়ায় এই মেয়েরা কোনো কিছু নিয়েই জীবনে খুব একটা চাপ নেয় না। আর স্বভাবে শান্ত হয়। আর এ ধরনের মহিলাদের অনেক পুরুষই পছন্দ করেন।

সাধারণত এই মেয়েরা আপনাকে বিচার না করে বুঝতে চেষ্টা করে। কীভাবে জীবনে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয় তাও শেখায়। এই মেয়েরা চট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আপনার সব কথা মনে দিয়ে শোনে। আপনার চেয়ে বড় হওয়ায় সে বুঝতে পারে কোনো সম্পর্ক বা সিদ্ধান্তের জন্য ভবিষ্যতে আপনাকে কষ্ট পেতে হতে পারে।

স্ত্রীর বয়স বেশি হলে যে সমস্যাগুলি হয়

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে একটু বেশি হয়ে থাকে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রমও ঘটে যায়। আর তখনই হয়তো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। সেটা হতে পারে শারীরিক ও মানসিক দুটোই। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, এমন বিয়ের ফলে কী কী সমস্যায় পড়তে হয় তাদের-

এক. মানসিক চাপ
স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বয়স বেশি হলে যেসব পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরি হয় তা মনের উপরে চাপ সৃষ্টি করে। দেখা যায়, নারীর মনে তা বেশি প্রভাব ফেলে। এর জেরে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয় কিছু নয়।

দুই. যৌনজীবনে সমস্যা
স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বয়স খুব বেশি হলে একটা সময়ে যৌনজীবনে সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে। কারণ, নারী ও পুরুষের শারীরিক ক্ষমতা ও চাহিদা এক রকম হয় না। নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক চাহিদা দিন দিন কমে আর পুরুষের শারীরিক চাহিদা অনেক বয়স পর্যন্ত বজায় থাকে। এতে দেখা যায়, তাদের নান সমস্যায় পড়তে হয়।

তিন. লোকনিন্দা
স্ত্রী যখন বয়সে বড় হন, তখন প্রথমেই যে বিষয়টির মুখোমুখি হতে হয় সেটি হল লোকজনের নিন্দা। স্বামী-স্ত্রীর দিকে বাঁকা চোখে তাকান অনেকেই। কথা শুনতে হয় বন্ধুদের থেকেও। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য নিয়ে অনেকে আড়ালে, এমনকি সামনাসামনিও ঠাট্টা করে থাকে।

চার. পারিবারিক অসহযোগিতা
স্ত্রীর বেশি বয়স নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি আসে পরিবার থেকেই। খুব কম পরিবারই রয়েছে যেখানে এমন বিয়ে সহজেই গ্রহণ করা হয়।

পাঁচ. বয়সের ছাপ
স্ত্রী যখন স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় হয়ে থাকেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীর চেহারায় বয়সের ছাপ আগে পড়বে। অনেক পুরুষই তখন স্ত্রীকে অপরের সঙ্গে পরিচয় করাতে সঙ্কোচবোধ করেন। আবার অনেক স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে বের হতে চান না। পরস্পরের মধ্য একটা দূরত্ব থেকেই যায়।

ছয়. গর্ভধারণে সমস্যা
সাধারণত ৩৫ বছরের পরেই গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। স্বামীর বয়স খুব কম হলে সে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করতেই পারে। কিন্তু বয়স্কা স্ত্রীর পক্ষে সন্তানের জন্য বেশি দিন অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।

সাত. বোঝাপড়ার সমস্যা
মনস্তাত্বিকরা বলেন, সমবয়সি দু’জন ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে মেয়ের মানসিক বয়স ছেলের তুলনায় দু’বছরের বেশি হয়। স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর বয়স বেশি হলে মানসিক বয়সের পার্থক্য আরও বেশি হবে। এই মানসিক বয়সের পার্থক্যের কারণে বোঝাপড়ার অভাব হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেক সময়ে স্ত্রী বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায় স্বামীর মনে হতে পারে সে তার উপর কর্তৃত্ব করছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*