ফলাফল হাতে-নাতে, মাত্র এক সপ্তাহ খালি পেটে খেয়ে দেখুন থানকুনি পাতার রস!

চটজলদি রো’গ নিরাময়ের জন্য আম’রা অনেকেই অ্যালোপ্যাথির দ্বারস্থ হয়ে যাই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্র’তিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না।

করে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পে’টের রো’গে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার। পার্শ্বপ্র’তিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগু’লির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে,

যেগু’লি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আম’রা জানি না। অনেক সময় জে’নেও, বিশ্বা’স হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।

থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলা’শয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পে’ট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে,

পে’টের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শ’রীর-স্বা’স্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগু’লি।

যে কোনও পে’টের রো’গ থেকে মু’ক্তি পে’টের রো’গ নির্মূল ক’রতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পে’টের রো’গ থেকে মু’ক্তি পাওয়া যায়। একই স’ঙ্গে পে’ট নিয়ে কোনও দিনও স’মস্যায় ভুগতে হয় না। Asiaticoside নামে একটি উপাদান রয়েছে থানকুনি পাতায়, যা হ’জম ক্ষ’মতার উন্নতি ঘটায়।

সেই স’ঙ্গে স্টমাক আলসারের মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে। শুধু তাই নয়, পে’ট খা’রাপ বা ডায়রিয়ার চিকিৎ’সাতেও (Benefits of Thankuni Leaves) অনেক সময় এই পাতাটিকে কাজে লা’গানো হয়ে যাকে কোথাও

কে’টে গেলে সেখানে যদি অল্প করে থানকুনি পাতা (Thankuni Leaf) থেঁতো করে লা’গানো যায়, তা হলে দারুণ উপকার পাবেন। এই পাতায় রয়েছে Saponins নামে একটি উপাদান, যা ক্ষ’তস্থানে র’ক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যে কারণে ক্ষ’ত শুকিয়ে যেতে সময় লাগে না। ক্ষ’তস্থানে কোনও ধ’রনের সং’ক্রমণ হওয়ার আশ’ঙ্কাও কমে।

ত্বকের সতেজতা বৃ’দ্ধি পায়: শুধু পে’টই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরো’গ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জে’ল্লা বাড়ে। ত্বকের ওজ্জ্বল্য বাড়ায় থানকুনি পাতা ৷ প্রতিদিন থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে বড় বড় রো’গের থেকে জয় পাওয়া সম্ভব ৷

অ্যাংজাইটি এবং মা’নসিক অবসাদের প্রকোপ কমায়। এমন ধ’রনের স’মস্যায় যাঁরা ভু’গছেন, তাদের নিয়মিত করে খেতে হবে থানকুনি পাতার রস, তা হলেই মিলবে উপকার। কারণ, এতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা Serotonin হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যে কারণে Cortisol, মানে স্ট্রেস হরমোনের প্র’ভাব কমতে শুরু করে।

ফলে অ্যাংজাইটি এবং মা’নসিক অবসাদের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এমনকী, স্ট্রেস লেভেলও যেমন কমে, তেমনই বারে-বারে অ্যাংজাইটি অ্যাটাকের কবলে পড়ার আশ’ঙ্কাও কমে। মৃ’তকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃ’তকোষগু’লিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।

মস্তিষ্কের ক্ষ’মতা বাড়ে: থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও র’ক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃ’তিশ’ক্তি বৃ’দ্ধি পায়। নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করলে শ’রীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং Pentacyclic Triterpenes নামক একটি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যে কারণে ব্রেন সেলের ক্ষ’মতা এতটাই বেড়ে যায় যে স্মৃ’তিশ’ক্তির উন্নতি তো ঘ’টেই, সেই স’ঙ্গে বুদ্ধির ধারও বাড়ে চোখে পড়ার মতো।

এই কারণেই তো ছোট বাচ্চাদের থানকুনি পাতার রস (Centella Asiatica) খাওয়ানোর পরাম’র্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স্ক মানুষরাও যদি নিয়মিত থানকুনি পাতার রস খান, তা হলে শেষ বয়সে অ্যালঝাইমা’র্স বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রা’ন্ত হওয়ার আশ’ঙ্কা কমে। স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতেও সাহায্য করে।

অনিদ্রার স’মস্যা দূ’র হয়: রাতে কি ঠিক মতো ঘুম হয় না? তা হলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন থানকুনি পাতা। দেখবেন, উপকার (মিলবে একেবারে হাতে-নাতে। কারণ, এতে রয়েছে একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডান্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা স্ট্রেস লেভেল কমায়। স’ঙ্গে নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত রাখে। ফলে অনিদ্রার মতো স’মস্যা দূ’রে পালাতে সময় লাগে না। বয়স বাড়লেও, যৌ’বন ধ’রে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস।

প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বা’সও বেড়ে যায়। সকাল-সকাল খালি পে’টে থানকুনি পাতার রস খেলে যেমন উপকার মেলে, তেমনই কাঁচা থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। ইচ্ছে হলে খেতে পারেন থানকুনি পাতার পেস্ট অথবা বড়াও। আবার এই পাতা দিয়ে তৈরি পানীয় খেলেও একই উপকার মেলে।

শ’রীরকে বিষমু’ক্ত করে: নানা ভাবে আমাদের শ’রীরে প্রবেশ করা টক্সিক উপাদানদের যদি সময় থাকতে-থাকতে বের করে দেওয়া না যায়, তা হলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। কারণ, সেক্ষেত্রে এই সব ক্ষ’তিকর উপাদানগু’লির কারণে দে’হের গু’রুত্বপূর্ণ অ’ঙ্গগু’লির মা’রাত্মক ক্ষ’তি হয়ে যাওয়ার আশ’ঙ্কা থাকে। এখন প্রশ্ন হল, টক্সিক উপাদানদের শ’রীর থেকে বের করবেন কীভাবে?

এক্ষেত্রে ভরসা রাখতে পারেন, থানকুনি পাতার উপরে (Thankuni Pata)। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা মাত্র ২ চামচ থানকুনি পাতার রসের স’ঙ্গে যদি ১ চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়, তা হলে র’ক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানগু’লি প্রস্রাবের স’ঙ্গে বেরিয়ে যায়। ফলে শ’রীরের কোনও ধ’রনের ক্ষ’তি হওয়ার আশ’ঙ্কা আর থাকে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*